প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফা শেষ হলেও চালু করা যায়নি টেলিটকের ৫জি সেবা

তৃতীয়বারের মতো মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব

টেলিটকের ৫জি সেবা দেয়ার জন্য চার বছর আগে একটি প্রকল্প হাতে নেয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু চার বছর পার হয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা।

টেলিটকের ৫জি সেবা দেয়ার জন্য চার বছর আগে একটি প্রকল্প হাতে নেয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু চার বছর পার হয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। এরই মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় শেষ। তৃতীয় দফায় আবার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য তোড়জোড় চলেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রাহকের সেবার নামে বর্তমান সরকারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকল্পটি। হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করা হলেও প্রকল্পের মূল কাজ নেটওয়ার্ক স্থাপনে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। টাওয়ারের ট্রান্সমিশন স্থাপনের সাবস্টেশনের কাজ এখনো শুরুই হয়নি।

প্রকল্পের তথ্যমতে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতায় ২০২১ সালে ‘গ্রাম পর্যায়ে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও ৫জি সেবা প্রদানে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় বিগত সরকার। প্রকল্পটিতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। পরে সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের জুনে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি সংস্থাটি। ফলে তৃতীয়বারের মতো আরো দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মূল অনুমোদিত ব্যয় ২ হাজার ২০৪ কোটি টাকার বিপরীতে মূল মেয়াদ দুই অর্থবছরে মোট ব্যয় হয়েছে ৩৫১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা মোট অনুমোদিত ব্যয়ের ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সংশোধিত ডিপিপিতে ২ হাজার ২৩৮ কোটি টাকার বিপরীতে ৩ বছর ১০ মাসে অর্থাৎ চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

সরকারের এ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরও উপযুক্ত দরদাতার অভাব এবং সরকারি শর্ত ভঙ্গের কারণে আটকে আছে নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণকাজ। প্রকল্পের আওতাধীন রাজধানীর মহাখালীর বৈদেশিক টেলিযোগাযোগ অঞ্চলের কার্যালয়ে নতুন টাওয়ারের ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতির কাজ শুরুই হয়নি। সাবস্টেশন নির্মাণসহ নতুন টাওয়ারের স্থাপনকাজে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, টেলিটকের নেটওয়ার্কের ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি স্থাপনকাজ এবং সাবস্টেশন স্থাপনের নির্মাণকাজও স্থগিত রয়েছে। নাম প্রকাশ না করে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন, ৩ হাজার ২০০টি নেটওয়ার্কের টাওয়ার স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ। নতুন তিন হাজার স্থানীয় ক্রয় বেস ট্রান্সসিভার স্টেশনের (বিটিএস) যন্ত্রপাতি সংগ্রহ হলেও স্থানীয় ক্রয় দরপত্র এবং ব্যাটারি সংগ্রহ ও স্থাপন দরপত্র বাস্তবসম্মত না হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) চলতি বছরের জুনে নিবিড় পরিবীক্ষণে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ২০০টি বিদ্যমান টাওয়ার হালনাগাদের কাজ প্রায় ৭৮ ভাগ শেষ হয়েছে। তবে নতুন তিন হাজার টাওয়ার বসানোর জন্য নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে।

কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নিজাম উদ্দিন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘কিছু সাইটের কাজ চলছে, আবার কিছু সাইটের কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে যেসব সাইটের কাজ বন্ধ ছিল সেটা সুরাহার ব্যাপারে কথা চলছে।’

এদিকে প্রকল্পটি পুনরায় মূল্যায়ন করা উচিত বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী। তিনি বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় স্থানীয় বা বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ফলে তখনকার নির্ধারিত দর আর এখনকার বাস্তবের সঙ্গে আর মিলছে না। যারা প্রকল্পের অংশীদার আছেন তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান করা প্রয়োজন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কথা থাকলেও বর্তমানে ২জি সেবাও মেলে না। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুরুতে আশা জাগিয়েছিল টেলিটক। কিন্তু গ্রাহক সংখ্যা, রাজস্ব আয় এবং নেটওয়ার্কের আওতা সব ক্ষেত্রে অন্য সব কোম্পানির চেয়ে পিছিয়ে টেলিটক। অথচ সরকার টেলিটকের পেছনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে আসছে।

আরও